ক্ষুব্ধ তারেক, উদ্বিগ্ন জোবায়দা, অভিযুক্ত মামুন

খালেদা জিয়া এক কঠিন জীবন যাপন করছিলেন। গুলশানে তার বাসভবন ফিরোজায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। এমনকি হাতেগোনা কয়েকজন নিকটাত্মীয় ছাড়া এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছাড়া কেউ তার বাসায় প্রবেশ করতে পারত না। বেগম খালেদা জিয়াও সবার সাথে দূরত্ব বজায় রেখেই কথা বলতেন।

কোনভাবেই যেন করোনায় তিনি আক্রান্ত না হন এজন্য তার পরিবার এবং তার বাড়ির সকলের কঠিন চেষ্টা ছিল। কিন্তু বেহুলার বাসর ঘরে যেভাবে সাপ ঢুকলে ঠিক সেভাবেই যেন বেগম খালেদা জিয়াকে করোনা আক্রান্ত করল। খালেদা জিয়ার করোনা আক্রান্তের খবর শুনে লন্ডনের পলাতক বেগম জিয়ার ছেলে তারেক জিয়া ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

তিনি কীভাবে এটি হলো তা নিয়ে রাগান্বিত হয়েছেন। বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রের রাগ হলো তার মামা এবং খালার ওপর। তাদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তারেকের সম্পর্কের অবনতির কথা শোনা যায়। বিশেষ করে মুচলেকায় খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং তাদের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারেক জিয়া পছন্দ করেন না। আর এ কারণে তারেক এই খবর শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

আজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যায় তিনি মায়ের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তার যত্নের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনেছেন তাঁর মামা এবং খালাদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে তারেক পত্নী ডা. জোবায়দা এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। ডা. জোবায়দা একজন চিকিৎসক। তিনি জানেন যে এই ধরনের রোগীদের জন্য করোনা কতটা প্রাণঘাতী এবং ভয়ঙ্কর।

সেজন্যই তিনি বেগম জিয়াকে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতি মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থা হালনাগাদ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। আর এই পুরো ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন ডা. মামুন, যিনি বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক। ডা. মামুনই একমাত্র যিনি সামাজিক দূরত্বের বাইরে বেগম খালেদা জিয়ার কাছে যেতেন। তিনি বেগম খালেদা জিয়ার প্রেশার মাপতেন এবং ব্লাড সুগার সুগার সহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজগুলো করতেন।

প্রায় প্রতিদিনই বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতেন ডা. মামুন। ডা. মামুন পেশায় একজন চিকিৎসক। সাম্প্রতিক সময়ে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। আর সে কারণেই হয়তো ডা. মামুন নিজেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন বা তার সঙ্গে যে নার্স থাকে তিনি হয়তো করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তাদের মাধ্যমেই বেগম জিয়ার দেহে করোনার জীবাণু প্রবেশ করেছে বলে মোটামুটি নিশ্চিত বেগম জিয়ার পরিবার এবং অন্যান্যরা।

আর এ কারণেই এখন ডা. মামুন অভিযুক্ত হয়েছেন বিএনপির কাছে, বেগম জিয়ার পরিবারের কাছেও। বলা হয়েছিল যে, ডা. মামুন নিয়মিত করোনা পরীক্ষা করবেন এবং পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার প্রেক্ষিতে তিনি বেগম জিয়ার সঙ্গে তার দেখা করবেন। কিন্তু বেগম জিয়ার পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে, ডা. মামুন করোনা পরীক্ষা করেননি এবং না করার কারণেই তিনি বা তার সঙ্গে যে নার্স আসে তাদের দ্বারাই বেগম জিয়া আক্রান্ত হয়েছেন বলে মোটামুটি নিশ্চিত বেগম জিয়ার পরিবার এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ।

তারেক জিয়া এখন বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য আরও কঠোর নজরদারি করেছেন। বেগম জিয়ার পরিবার সূত্রে জানা গেছে যে, আগামী দুই-তিন দিন বাড়িতে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং এরপর পরিস্থিতি কোন দিকে যায় দেখার পর ডা. জোবায়দা যে সিদ্ধান্ত নিবেন সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বেগম জিয়ার পরবর্তী চিকিৎসা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *