আরেক জান্নাতের স’ন্ধান! গোয়েন্দাদের কাছে চাঞ্চল্যকর ত’থ্য

হেফাজতে ই’সলামের যুগ্মমহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের আরেক বান্ধবীর স’ন্ধান পেয়েছেন আ’ইন প্র’য়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। তার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস। এ না’রীকে এত দিন মামুনুলের প্রথম স্ত্রী ধারণা করলেও দুই দিন আগে বেরিয়ে এসেছে নতুন ত’থ্য।

এতে রীতিমতো হতভম্ব গো’য়েন্দারা। পরে মামুনুলের ঘনিষ্ঠ অনেকের কাছে এ না’রী স’ম্পর্কে যাচাই-বাছাই শে’ষে গোয়েন্দারা আরও নিশ্চিত হন। তবে মামুনুল হকের আগের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা হওয়ায় এই জান্নাতের পরিচয় নিশ্চিতে বেগ পেতে হয়।

মামুনুল ও জান্নাতের চাঞ্চল্যকর সব ত’থ্য বর্তমানে গোয়েন্দাদের কবজায়। অনুস’ন্ধানে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন মামুনুলের এ বান্ধবী। মাদরাসার পাশেই একটি বাসা ভাড়া করে থাকেন।

এ বাসাতেই মাওলানা মামুনুল মাঝেমধ্যে যাতায়াত করতেন। নিয়মিত যোগাযোগ ছিল, একান্তে সময় কা’টানোর অনেক উপকরণও হাতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। অনেক ত’থ্য-প্র’মাণও এসেছে মিডিয়ার হাতে। জান্নাতুল বায়াত মহিলা মাদরাসার প্রধান উপদেষ্টা হেফাজত নেতা মাওলানা মামুনুল।

ঝর্ণার স’ন্ধান পাচ্ছেন না গো’য়েন্দারা : হেফাজতে ই’সলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণাকে হন্যে হয়ে খুঁ’জছে গো’য়েন্দারা। ঢাকা মহানগর পু’লিশের একাধিক টিম সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় তার স’ন্ধানে অ’ভিযান চালাচ্ছে।

বিশেষ করে ঝর্ণার বড় ছেলে আবদুর রহমান একটি গ’ণমাধ্যমের কাছে তিনটি ডায়েরি নিয়ে কথা বলার পর থেকেই ঝর্ণার ফোন নম্বরও ব’ন্ধ পাচ্ছেন তার স’ন্তানেরা। উ’দ্বিগ্নতায় কা’টছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত। অন্যদিকে, বর্তমানে ঝর্ণার তিনটি ডায়েরিই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পু’লিশের হস্তগত হয়েছে।

এ ব্যাপারে পল্টন থা’নায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছে ডিবি পু’লিশ। এ ব্যাপারে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, আসলে তিনটি ডায়েরিসহ আরও কিছু ডকুমেন্টস আমাদের কাছে এসেছে। এগুলো আমরা গুরুত্বের স’ঙ্গে খতিয়ে দেখছি। তবে ত’দন্তের আগে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

জানা গেছে, রয়েল রিসোর্ট কা’ন্ডের পর থেকে ধানমন্ডি এলাকার ২৩/৩, নর্থ সার্কুলার রোডে থাকলেও বর্তমানে ঝর্ণার কোনো হদিস পাচ্ছেন না তার পরিবারের লোকজন। আগে স’ন্তানদের স’ঙ্গে কথা বললেও গত তিন-চার দিন ধরে তাদের স’ঙ্গে কথা বলছেন না ঝর্ণা।

তবে কেরানীগঞ্জের একটি বাসায় বসবাস করছেন বলে একটি খবর এলেও সে সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি ত’দন্ত সংশ্লিষ্টরা। ডায়েরিতে যা লিখেছেন ঝর্ণা : হাফেজ শহীদুল ইস’লাম এবং জান্নাত আরা ঝর্ণার ঘরে আবদুর রহমান ও তামীম নামে দুই পুত্র স’ন্তান আছে।

২০১৮ সালের ১০ আগস্ট খুলনার মাদরাসা শিক্ষক শহীদুল ই’সলামের সঙ্গে বিয়ে বি’চ্ছেদ হয় জান্নাত আরা ঝর্ণার। পরবর্তীতে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের স’ঙ্গে সম্পর্কে জ’ড়ান তার কথিত স্ত্রী জান্নাত আরা ঝর্ণা। এবার তার লেখা ২০০ পৃষ্ঠার তিনটি ডায়েরি ডিবির হাতে এসেছে। এসব ডায়েরিতে রয়েছে চাঞ্চল্যকর সব ত’থ্য।

ওই ডায়েরিগুলোতে ঝর্ণা তার জীবনের অনেক ঘ’টনাই লিপিবদ্ধ করেছেন। একটি অংশে লিখেছেন, কিছুদিন বাবার বাড়িতে থাকার পর হেফাজত নেতা মামুনুল হকের জি’ম্মায় অবিবাহিতা উল্লেখ করে ঢাকার নর্থ সার্কুলার সড়কের একটি বাড়ির চতুর্থ তলায় সাবলেট ভাড়া নেন। ২০১৮ সালের আগস্ট থেকে ২০২১ সালের মার্চ পর্যন্ত জান্নাতের জীবনে ঘ’টে যাওয়া নানা ঘ’টনা তিনি উল্লেখ করেন তিনটি ডায়রিতে।

প্রথম ডায়রিতে জান্নাত লিখেছেন, ‘আমাকে নিয়ে কারও মাথাব্য’থা নেই। শরীরের দা’বিদার আছে।’ এরপর লিখেছেন, ‘মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেন আ’ল্লাহ সব জেনে মামুন সাহেব যা করেছেন আমি শুধু তার টাকা ফেরত দিতে চাই,… আ’ল্লাহ কবুল করো।’

দ্বিতীয় ডায়েরিতে জান্নাত লিখেছেন, ‘আমার প্রতি কখনো কারও মায়া জ’ন্মায়নি। শুধু প্রে;মে পড়েছিল, কেউ কখনো স’ত্যিকারে ভালোবাসেনি। আমাদের স’ঙ্গে শুধু প্রে;ম হয়েছিল। কোনো ভালোবাসা ছিল না, ছিল শুধু ক্ষণিকের আবদার পূরণের আমেজ।’

দ্বিতীয় ডায়েরির শে’ষ পাতায় লিখেছেন, এম, ২০/০২/১৯, এগ্রিম্যান্ট স্টার্ট। এই সংক্ষিপ্ত লেখার ব্যাখ্যা তৃতীয় ডায়েরিতে দেন জান্নাত। সেখানে লিখেন, স্বপ্নে দেখলাম হেল্প চাচ্ছি। বাট সে হাতটা বাড়িয়ে জ’ড়িয়ে ধ’রেছে। ভাবছিলাম ঘুমের মাঝে বিয়ে না করে জ’ড়িয়ে কেন ধ’রেছে?

‘এবার বাস্তবতা শুরু ঠিক ফেব্রুয়ারির ১৯ বা ২০ হবে এখন চলছে। মাঝে মাঝে মনে হয় আমি তাকে খুব ঘৃ’ণা করি। আবার কখনো মনে হয় ভালোবাসি, তবে হ্যাঁ আমার লাইফটা নরক বানিয়ে ফেলেছে।’

এরপর জান্নাত লিখেছেন, সাদা সাদা জামা পরলে আর বড় মাওলানা হলেই মানুষ হয় না। মুখোশ’ধারিও হয়। মামুন সাহেব আমার শরীরটা কিনেছে কেন আ’ল্লাহ?

চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি জান্নাত লিখেছেন, ‘টাকা দিয়ে আমার দেহ কিনেছিলেন। আজ আপনার টাকা আমি ফেরত দিতে চাই। শুধু আমার সময় ফেরত চাই। কেন করেছিলেন এমন। আপনার অনেক টাকা ছিল, পাওয়ার ছিল তাই?’

বিবাহবহির্ভূত মেলামেশার অনুশোচনার কথাও উঠে এসেছে ঝর্ণার ডায়েরিতে। ডায়েরির পাতায় পাতায় রয়েছে মামুনুলের প্রতিশ্রুতি ভ’ঙ্গের আর্তনাদ। ডায়েরিতে ঝর্ণা লেখেন, আমি তাকে ভালোবাসি না ঘৃ’ণা করি বুঝতে পারছি না। কিন্তু সে আমার জীবনকে নরক বানিয়ে ফেলছে।

কয়েক দিন ধ’রে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর বৃহস্পতিবার ফেসবুক লাইভে এসে বিষয়টির জন্য ক্ষ’মা চান মামুনুল হক। সেখানে তিনি স্বীকার করেন গত কয়েক দিনে ফাঁ’স হওয়া ফোনালাপ তারই ছিল। আ’ত্মপক্ষ সমর্থন করে মামুনুল বলেন, ‘স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে, স্ত্রীকে খুশি করতে প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে কোনো স’ত্যকে গো’পন করা যায়।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *