ঝর্ণার ৩টি ডায়েরিতে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য

জান্নাত আরা ঝর্ণা, হেফাজত নেতা মামুনুল হকের কথিত স্ত্রী। তার লেখা ২০০ পৃষ্ঠার ৩টি ডায়েরি খুঁ’জে পাওয়া গেছে। যাতে রয়েছে চাঞ্চল্যকর সব ত’থ্য। ঝর্ণার দা’বি, বিয়ে না করেই তাকে গ্রিনরোডের একটি বাসায় রাখেন মামনুল হক।

খরচের টাকাও দিতেন। ডায়েরিতে লেখা, বিনিময়ে অ’বৈধ মেলামেশা করতেন যা মেনে নিতে পারেননি ঝর্ণা। নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টে যে না’রীর সাথে অবসর উদযাপনে গিয়েছিলেন মামুনুল হক তিনিই ঝর্ণা।

যাকে দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দিয়েছিলেন। ঝর্ণার তিনটি ডায়েরি অনেক কিছুই খোলাসা করে দিয়েছে। সেখানে লেখা, দীর্ঘদিন ধ’রে মনোরঞ্জন করেছেন মামুনুল হক। বিবাহ বহির্ভূত মেলামেশার অনুশোচনাও ফুটে উঠেছে।

বিয়ে না করলেও ঝর্ণার নিয়মিত ভরণপোষন দিতেন মামুনুল হক। কিন্তু বিনিময়ে ঝর্ণাকে যা মাশুল দিতে হয়েছে তার জন্য ক্ষ’মা চেয়েছেন সৃ’ষ্টিকর্তার কাছে। ডায়েরির পাতায় পাতায় রয়েছে প্রতিশ্রুতি ভ’ঙ্গের আর্তনাদ।

কারো মনে প্রশ্ন তৈরি হতেই পারে এ ডায়েরিগুলো আসলেই ঝর্ণার লেখা কিনা? জবাব দিলেন, তার বড় ছেলে আব্দুর রহমান। তিনি ইন্ডিপেনডেন্টের কাছে সেসব ডায়েরির প্র’মাণ তুলে ধরেন।

বিয়ের বিষয়েও ধারণা রয়েছে ডায়েরিতে। মামুনুল হক দা’বি করেন, ঝর্ণাকে বিয়ে করেছেন দুই বছর আগে। এ নিয়ে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঝর্ণা ডায়েরিতে শুধু লিখেছেন এম-এগ্রিমেন্ট স্টার্ট। আর এ বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি লিখেছেন মামুনুল হক বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, পূরণ করেননি।

এসব ডায়েরি দেখে ক্ষু’ব্ধ ঝর্ণার ছেলেও। মামুনুলের কথিত স্ত্রীর ছেলে আবদুর রহমানের অনুরোধ, কাউকে বি’শ্বাস করার আগে ভালভাবে যাচাই করার। মামুনুল হকের বি’চারও দা’বি করেন আব্দুর রহমান।

ডায়েরিতে ঝর্ণা লেখেন, আমি তাকে ভালোবাসি না ঘৃ’ণা করি বুঝতে পারছি না। কিন্তু সে আমার জীবনকে নরক বানিয়ে ফেলছে। ডায়েরিগুলো তার মায়ের বলে নিশ্চিত করে ঝর্ণার বড় ছেলে আব্দুর রহমান বলেন, ‘একজন মহিলার স’ন্তানের জ’ন্ম সাল। তার বিয়ে বি’চ্ছেদ ও তার মনের দুঃখের কথা কি অন্য কেউ লেখে। এটা তার বাসা থেকে পাওয়া। আর এটা আমার মায়ের ডায়েরি।’

মামুনুলের ঘ’টনা তৈরি করেছে অনেক প্রশ্ন, দেখা দিয়েছে স’ন্দেহ। ত’দন্তের মাধ্যমে সব কিছু পরিষ্কার হোক, এমনটাই চায় সমাজের সবাই। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে এক সপ্তাহ আগে এক না’রীসহ অবরু’দ্ধ হন হেফাজতে ই’সলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক।

তিনি ওই না’রীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দা’বি করেন। বলেন, বিয়ে করেছেন শরিয়তসম্মত উপায়ে। তবে নিব’ন্ধন করেননি। ওয়ার ঘ’টনাসহ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাখ্যা দিতে ফেসবুক লাইভে এসে বৃহস্পতিবার মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ইস’লামে চারটি বিয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। দেশের আ’ইনেও চার বিয়েতে নি’ষেধাজ্ঞা নেই।

মামুনুল হক বলেন, কাজেই আমি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি এতে কার কী? যদি আমি স্ত্রীদের কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করে থাকি, তবে আমার বি’রুদ্ধে আমার পরিবার অভিযোগ দিতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ কি দেখাতে পারবে যে আমার পরিবার কোনো বিষয়ে আমার বি’রুদ্ধে কোনো অ’ভিযোগ দিয়েছে?

তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর স’ঙ্গে ফোনালাপ, আমার স্ত্রীদের স’ঙ্গে আমার কথোপকথন; এগুলো একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয় এবং আমার পরিবারিক বিষয়। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের স’ঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমার ব্যক্তিগত গো’পনীয়তাকে মা’রা’ত্মকভাবে ক্ষু’ণ্ণ করা হয়েছে।

যারা ব্যক্তিগত আলাপচারিতাকে জনসম্মুখে প্র’কাশ করে আমার নাগরিক অ’ধিকার, আমার ধ’র্মীয় অধিকার, আমার ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করেছেন- তারা প্রচলিত আ’ইনে চরম অ’পরাধ করেছেন এবং তারা ই’সলামি শরিয়তের আলোকেও অনেক বড় অন্যায় এবং অ’পরাধ করেছেন। ই’সলামী শরিয়তের বিধান ল’ঙ্ঘন করার কারণে আ’ল্লাহর আ’দালতে আমি বি’চার দা’য়ের করবো।

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত আ’ইন লঙ্ঘন করে আমার ব্যক্তিগত গো’পনীয়তা ল’ঙ্ঘন করার অ’পরাধে যারা দু’ষ্ট আমি তাদের বি’রুদ্ধেও অ’নতিবিলম্বে আ’ইনি প্রদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *