গাড়ি নেই আতিকুলের!

নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত মেয়র প্রার্থী আতিকুল ইসলামে নিজের বা স্ত্রী-সন্তানদের কারও কোনো গাড়ি নেই। ১৬টি প্রতিষ্ঠানে কর্ণধার হলেও তার হাতে মাত্র ৮৭ হাজার ৬৩ নগদ টাকা রয়েছে।

ডিএনসিসি নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দেয়া হলফনামায় আতিকুল ইসলাম এসব তথ্য উল্লেখ করেছেন।

আতিকুল ইসলামের পিতা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও মাতা মাজেদা আহমেদ। উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রাস্তায় ২/এ বাসাটি তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা বিকম (পাস) ও তার বিরুদ্ধে বর্তমানে কিংবা অতীতের কোনো মামলা নেই।

বাৎসরিক আয়

আতিকুল ইসলাম তার ১৬টি প্রতিষ্ঠান থেকে আয় দেখিয়েছেন ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর বাইরে কৃষিতে ৩ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, বাড়ি ভাড়া থেকে ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ৪০৪ টাকা, ব্যাংক সুদ থেকে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৫৭১ টাকা ও মৎস খাত থেকে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। আর স্ত্রীর আয় দেখিয়েছেন ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পদ

ব্যবসায়ী এই নেতা হলফনামায় তার হাতে নগর অর্থ উল্লেখ করেছেন ৮৭ হাজার ৬৩ টাকা। তবে, স্ত্রীর হাতে আছে ২ কোটি ৫৯ লাখ ২৯ হাজার ৭৬৫ টাকা, যার মধ্যে পুঁজি ২ কোটি টাকা। আতিকুল ইসলামের হাতে বৈদেশিক মুদ্রা আছে ১ হাজার ৫৭৬.১৩ ইউএস ডলার।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে ১ কোটি ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৬০ টাকা, স্ত্রীর নামে ১১ লাখ ৪৯ হাজার ৯০৫ টাকা আর মেয়ের নামে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৯৩৪ টাকা উল্লেখ করেছেন।

বন্ড, স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির ৩ কোটি ৭৫ লাখ ২৪ হাজার টাকার শেয়ার রয়েছে আতিকুলের।

২ লাখ টাকার অলঙ্কার নিজের এবং ৩০ ভরি সোনা আছে স্ত্রীর। নিজের ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী আছে ৫ লাখ টাকার আর স্ত্রী আছে ৩ লাখ টাকার। নিজের আসবাব আছে ৫ লাখ টাকার, স্ত্রীর আছে ২ লাখ টাকার।

হলফনামায় অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি, লঞ্চ, স্টিমার, বিমান ও মোটর সাইকেল ইত্যাদি বিবরণের ঘরটি তিনি ফাঁকা রেখেছেন। অর্থাৎ আতিকুল ইসলামের নিজের বা তার স্ত্রীর বা তার কন্যার কোনো গাড়ি নেই।

স্থাবর সম্পত্তি

আতিকুল ইসলামের নিজের নামে এক একর ৭৪.০৩৫ শতাংশ কৃষি জমি আর স্ত্রীর নামে রয়েছে ৪৫ শতাংশ কৃষি জমি, নিজের নামে অকৃষি জমি আছে ৩৫.১৭ শতাংশ।

নিজের নামে ২ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার বাড়ি আছে। আর স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট ৫০ লাখ টাকায় বায়না করা আছে।

আইএফআইসি ব্যাংকে গৃহ ঋণ আছে ১ কোটি ১০ লাখ ৭৫ হাজার ৩৭১.১৬ টাকার। এ ছাড়া একই ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ ও গুলশান ব্রাঞ্চ, ইস্টার্ন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চ ও শাহ জালাল ইসলামী ব্যাংকের গুলশান ব্রাঞ্চে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডাইরেক্টর বা ডাইরেক্টর হওয়ার সুবাধে ঋণ নিয়েছেন এবং এগুলো নিয়মিত রয়েছে।

প্রয়াত ব্যবসায়ী নেতা ও আলোচিত মেয়র আনিসুল হকের শূন্য পদে উপ-নির্বাচন করছে নির্বাচন কমিশন। এতে ৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন।

এদের মধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যান্ডতারকা শাফিন আহমেদের মনোনয়নপত্র ঋণ খেলাপির কারণে বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ফেব্রুয়ারি, প্রতীক বরাদ্দ ১০ ফেব্রুয়ারি এবং ভোট হবে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি।